মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১

নারী ও পর্দা।। শিক্ষনীয় পোস্ট।


পর্দা নারীর পরিচয়। কোরআনে বারবার বলা হয়েছে পর্দার ব্যাপারে। আল্লাহর কাছে একজন নারীর পরিচয় তার পর্দায়। পর্দার বিধান প্রনয়ণ করা হয়েছে নারীর জন্য। পবিত্র কোরআনে যেমনিভাবে রাসূলে পাক (স.)-এর আদর্শকে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে বলা হয়েছে ঠিক তেমনি মহিলাদের পর্দার ক্ষেত্রে মা ফাতেমাকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। কিয়ামতের ময়দানে একজন নারী বিচার দিনের মালিক মহান অাল্লাহর সামনে নিজেকে প্রেজেন্টেশন করতে হবে পর্দার মাধ্যমে। অামরা কি সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি? অাল্লাহর ভয় অন্তরে আছেতো? 





পর্দার কারনেই একজন নারী অমূল্য। কেউ অাল্লাহর ভয়ে পর্দা করে আবার কেউ ছদ্মবেশে পর্দা করে। 

যারা আল্লাহর  ভয়ে পর্দা করে তারা হলো পর্দানশীন  আর যারা ছদ্মবেশে পর্দা করে তারা হলো শয়তানের গুপ্তচর, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো পর্দার ছদ্মবেশ ধরে বাজে কাজ করার মাধ্যমে পর্দার গায়ে কলঙ্ক লাগানো। যাতে পর্দানশীন নারীরা পর্দা নামক পবিত্র বিষয়টি থেকে বেরিয়ে নিজেদরকে ওপেন করে অপবিত্র হয়ে যায়। 


ছদ্মবেশী পর্দানশীলরা শয়তানের আরেক গুপ্তচরের দল। অামাদের চারপাশের পরিবেশে এই গুপ্তচরদের 99% চড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পর্দানশীল নারীদের ভুলভাল বুঝিয়ে বেপর্দা করার জন্য তারা সর্বদা তৎপর। এটাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্যে।  তারা বলবে..... "যারা পর্দা করে তাদের পর্দার পিছনে রয়েছে  যত সব খারাপ কাজ"।


তাই বলে কি আপনি পর্দা ছেড়ে দিবেন??

তা-ই যদি হয় তাহলে আপনিও শয়তানের গুপ্তচরের একজন হয়ে গেলেন। 

আপনিযে পর্দার আড়ালে খারাপ কাজ করেন না সেটা প্রমান করতে যদি আপনি পর্দা ছেড়ে দেন তাহলেতো পরোক্ষভাবে নিজের অজান্তেই শয়তানি কূটকৌশলকে সফল করতে আপনি আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন। আর সেই সাথে আল্লাহর কাছে বেপর্দার পরিচয় দিলেন। 

কোনো ব্যক্তি যে ধরনের মানুষকে পছন্দ করে, শ্রদ্ধা করে বা প্রত্যাশা করে শয়তান ঐ ব্যাক্তির নিকট তার প্রত্যাশিত মানুষের ছদ্মবেশে হাজির হয়।


ঠিক তেমনি শয়তান পর্দানশীন নারীদের ধোকা দেওয়ার জন্য পর্দারই আশ্রয় নেয়। অামরা যেন এসব ছদ্মবেশীর পাল্লায় পড়ে ঈমানহারা না হই। নবী  করিম (স.) শেষ জামানার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন ঈমান রক্ষা করা হাতের তালুতে জলন্ত কয়লা রাখার মতো কষ্টকর হয়ে যাবে। এটাই সেই যুগ।


হয়তো শয়তান এমন যুক্তি দিবে যা আপনি খন্ডন করতে পারবেননা। তার মানে এই নয় যে শয়তানের যুক্তিটাই সঠিক। বরং এটা ভাবুন যে শয়তানের যুক্তিটা খন্ডন করার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আপনার নেই। তাই শয়তানের যুক্তির সঠিক জবাব দিতে জ্ঞানের পরিধি বাড়ান। শয়তান ধোকা থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন "ইলমে দ্বীন" তথা ধর্মের জ্ঞান। 


এজন্যই দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করা ফরয করা হয়েছে। অতএব বেশী বেশী জ্ঞান অর্জন করুন এবং সে অনুযায়ী আমল করুন । তাহলে বুঝতে পারবেন পর্দা একজন নারী  হিসেবে অপনার জন্য কতটুকু জরুরি। 


"একজন নারীর আসল পরিচয়- পর্দা। 

একজন নারী খুবই........... মূল্যবান

পর্দার কারনে আপনি হয়ে উঠতে পারেন.........অমূল্য

আর শয়তানের ধোকায় 

বেপর্দা হলে আপনি হয়ে যাবেন........মূল্যহীন"


তাহলে ভাবে দেখুন -

আপনিযে পর্দার আড়ালে বাজে কাজ করেননা তা প্রমাণ করতে গিয়ে,  কিছু মানুষের কাছে সাধু হওয়ার জন্য পর্দা ত্যাগ করেন তাহলে আপনি মূল্যবান থেকে অমূল্য হবেন নাকি একেবারে মূল্যহীন হয়ে যাবন??


অতএব যারতার কথায় পর্দা বর্জন করবেননা। করলে আপনি কোরআন সুন্নার বিরুদ্ধ চলে যাবেন। কিয়ামতের ময়দানে মা ফাতেমার ছায়াতলে স্থান পাবেননা।

মনে রাখবেন এটা আখেরি জামানা। শয়তান আপনাকে এমনভাবে ধোকা দিবে যে, আপনি বুঝতেও পারবেননা যদি সঠিক জ্ঞান আপনার না থাকে।


মনে করেন...

আপনি কোথাও কোনো ভালো কাজে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। হঠাৎ শয়তান আপনার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তখন, একটি গাছ আপনার ডানাপাশে আছে, যেটা দিয়ে আপনি আপনার গন্তব্য চিহ্নিত করেছেন। শয়তান আপনাকে আপনার পছন্দনীয় কথার জালে ফাঁসিয়ে আপনাকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলো। কথা শেষ করার পর আপনি গাছটিকে আপনার বামপাশে দেখতে পাচ্ছেন। এইযে গাছটি আপনার ডানপাশে ছিলো এবং কেউ আপনাকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে.... সেটা বুঝে ওঠার আগেই শয়তান এমনভাবে ব্রেনওয়াশ করে দিবে  এটা বলে যে, "গাছকি কখনো স্থান পরিবর্তন করতে পারে??....তোমার ভুল হচ্ছে সবকিছু ঠিক আছে"। 

তখন আপনি ভাববেন আসলেইতো গাছটি আমার বামপাশেই ছিলো এবং আছে।


যদি আপনার বিবেকবুদ্ধি কাজে লাগাতে জানেন তাহলে, আপনার মনে ভাবোদয় হবে যে..." গাছ স্থান পরিবর্তন করতে পারেনা তা ঠিক কিন্তু আমিতো পারি। শয়তান আমাকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এবং আমার দিক পরিবর্তন করে দিয়েছে"। ফলে আপনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।


আপনি পর্দার আড়ালে বাজে কাজ করেননা সেটা প্রমাণ না করলে কিছু যায় আসেনা কিন্তু প্রমাণ করতে গিয়ে বেপর্দা হয়ে গেলে অনেক কিছুই আসে যায়। সবচেয়ে বড় কথাতো হলো এটাই যে আপনার দুনিয়া-অাখেরাত দুটোই শেষ হয়ে যাবে। আপনি কখনই তা চাননা নিশ্চয়।


আল্লাহর পথে চলতে গেলে শয়তানের ফাঁদে পা দেওয়া যাবেনা। শয়তানের যুক্তিগুলো হলো এক একটা পিছুটান। আল্লাহর পথে চলতে চাইলে পিছুটান এড়িয়ে চলতে শিখুন, শয়তানের ধোকায় পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শিখুন। আর তার জন্য বেশী বশী ইলমে দ্বীন অর্জন করুন। 

অবশেষে সারকথা এটাই যে,...."পর্দা ছাড়া একজন ঈমানদার নারীর কোনো অস্তিত্বই নেই".......


পবিত্র কোরআনে অাল্লাহ্ বলেছেন- "হে মানব জাতি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর আদেশ মেনে চল অন্যথায় তোমরা হবে সীমা লঙ্ঘনকারী" 

অন্যত্র বলা হয়েছে "তোমরা সীমা লঙ্ঘন করিওনা"

অতএব আমাদের উচিত পর্দা করে চলা, কারন এটা আল্লাহর আদেশ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- "তারা যেন তাদের চাদর দ্বারা বক্ষদেশ ঢেকে রাখে"

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- "তারা যেন পর্দা দ্বারা  তাদের মুখমন্ডল চবৃত করে রাখে".....


চলুন আমরা পর্দা করি ও ফিতনা থেকে দূরে থাকি যাতে "সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত না হয়।


শুধু নারীরদেরকে নয় পুরুষদেরকেও তাদের স্ত্রীদেরকে পর্দার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। অতএব অাপনার স্ত্রী পর্দা করতে না চাইলে তাকে পর্দা করতে বাধ্য করুন, পর্দার বিধান সম্পর্কে অবগত করুন এবং বেপর্দায় চলার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করুন.....যদি আপনার স্ত্রীকে আপনি ভালোবাসেন এবং ভয়াবহ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে চান।


আর যদি আপনার স্ত্রী পর্দনশীল হয়ে থাকে তাহলে তাকে বপর্দা হওয়া থেকে বাঁচান এবং পর্দার ব্যাপারে অারো উৎসাহিত করুন।


মহিলাদের ক্ষেত্রে  বলব আপনার স্বামী যদি আপনাকে বেপর্দা চলতে বলে তাহলে আপনার স্বামীকে পর্দার বিষয়ে অবগত করুন.....যদি আপনার স্বামীকে ভালোবাসেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে চান। কারন আপনি বেপর্দায় চললে আপনার স্বামীও ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না।   

লেখাঃ মিসেস শাহ আলম।  কনটেন্ট রাইটার, Study For Today Blog site। 

                  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Education news

৬ষ্ঠ থেকে ৯ম বার্ষিক পরীক্ষা ও ১০ম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা হবে ৩ বিষয়ে, পরীক্ষা শুরু ২৪ নভেম্বর থেকে

৬ষ্ঠ থেকে ৯ম বার্ষিক পরীক্ষা ও ১০ম শ্রেণির  নির্বাচনী পরীক্ষা  হবে ৩ বিষয়ে, পরীক্ষা শুরু ২৪ নভেম্বর থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম বার্ষিক পরীক্ষা ও ১০ম...