✍️ " বিশ্বাস" নাকি "অন্ধবিশ্বাস"❓
একটি সত্য উপলব্ধির প্রয়াস।।
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
✍•••••কেউ নিজেকে হেদায়তকারী বলে দাবি করলে কি তার অন্ধভক্ত হয়ে যাওয়া উচিত?
যদি কারোর কাছ থেকে ভুল ফতোয়া নিয়ে আমি দুনিয়াতে ভুল অামল করে যাই, কিয়ামতের মাঠে আমি অাল্লাহকে কি জবাব দেব? ঐ ব্যক্তি কি আমাকে সেদিন নাজাত দিতে পারবে?
দোষটা কি শুধু ঐ ব্যক্তির হবে নাকি দুইজনেরই হবে?
ঐ ব্যক্তি ভুল ফতোয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য শাস্তি সে পাবে কিন্তু তার চেয়ে বড় শাস্তি অামাকে ভোগ করতে হবে।
অাল্লাহ যদি অামাকে প্রশ্ন করেন যে, অামি কেন অামার বিবেককে কাজে লাগাইনি তখন অামি কি উত্তর দেব? কে কার বিবেককে কতটুকু কাজে লাগিয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর সবাইকে কাল কেয়ামতের মাঠে দিতে হবে।
কোরআনে যাদেরকে নিষ্পাপ বলা হয়েছে যাদেরকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে তাদের কাছে যেতে অামাদের এতো ফতোয়ার দরকার পড়ে আর যাদের ভিতরে ফিতনা অার বাড়াবড়ির সীমা নেই তাদেরকে নিয়ে আমাদের কত নাচানাচি। বিবেকের মধ্যে কি পোকা ধরেছে?
👉কোরঅানে অাল্লাহ স্পষ্ট করে বলছেন যে,,,,,,, "অামি মানুষকে বিবেকবুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরন করেছি, অতএব সে যা করবে তার কর্মফল সে পাবে"।
✍•••••••"উনি অনেক বড় অাল্লামা, ওনার কথা অস্বীকার করবো কিভাবে? উনি কত বড় পরহেজগার অালেমে দ্বীন, প্রখ্যাত অালেম উনি কি করে ভুল বলতে পারেন?"......... এটা অামাদের কথা, অার কোরঅানের কথা হলো....... যত বড় অালেমই হোকনা কেন অার যত বড় পরহেজগারই হোক না কেন অাল্লাহর অাদেশ অমান্য করলে অাল্লাহর লানৎপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে।
✍••••••••কোরঅান বলছে হেদায়তকারীগন অাল্লাহর মনোনীত এবং পুত পবিত্র। তাহলে হেদায়তকারীর ভাষা কি অশ্লিল হতে পারে? অামাদের বিবেক কি বলে?
★একজন ব্যাক্তি যদি যেই পাত্রে খায় সেই পাত্রটাকেই অাবার বৎনার মতো ব্যবহার করে তবে তাকে কি বুদ্ধিমান বলা যায়?
★কোনো বাজে লোক অামাকে বিশ্রী ভাষায় গালি দিলে, বিচার দেওয়ার সময়, তার গালির ভাষাটাই যদি অামি পুনরায় হুবহু ব্যবহার করি, তাহলে এটা কি অামার ভদ্রতার পরিচয় বহন করে?
★বিশ্রী কোনো গান না শুনার জন্য কাউকে নিষেধ করতে গিয়ে, ঐ বিশ্রী গানটি যখন অামি নিজেই গেয়ে শুনায় তখন বিষয়টা কি ভালো দেখায়?
★কেউ যদি উলঙ্গ নাচলে সেটা নিষেধ করতে চাইলে, তখনকি উলঙ্গ হয়ে নেচে দেখিয়ে দিয়ে বলতে হবে যে, এরকম করে নাচিওনা?
★★কোনো নেতৃত্ব স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তির থেকে কি এসব অাশা করা যায়?
উপরের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর- "না" কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে তার উল্টো,- "ধর্মের নামে অধর্ম"
✍•••••••মানুষকে হেদায়ত করার জন্য অাল্লাহ যুগে যুগে অাসমানি কিতাব ও হেদায়তকরী (তথা সংবাদদদতা, বার্তাবাহক, অাল্লাহর দূত) পাঠিয়েছেন। অাদম (অা) থেকে শুরু করে যত নবী- রাসুল ও অাওলিয়া কেরামগন কিংবা ইসলামের বড় বড় বুজুরগানে দ্বীন দুনিয়ার বুকে অাগমন করেছেন তাদের মধ্যে কি এমন কোনো দৃষ্টান্ত অাছে যে, মানুষকে সতর্ক করার জন্য বা শিক্ষা দেওয়ার জন্য ওয়াজের মধ্যে অশ্লিল ভাষা বব্যহার করেছেন কিংবা ভালো খারাপের পার্থক্য বুঝানোর জন্য বিশেষ ধরনের অশ্লিল অঙ্গভঙ্গির দ্বারা অভিনয় করে দেখিয়েছেন?
কেউ কেউ হয়ত বলবে সমাজের ময়লা পরিষ্কার করতে গেলে ময়লাতো একটু লাগবেই। বর্তমান যুগে ছেলে মেয়েদের যা অবস্থা এভাবে ওয়াজ না করলে হয়না। তাদের বলি, পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অশ্লিল ভাষা ব্যবহার করার দলিল কোরঅানে কোন অায়াতে অাছে❓ পূর্বেও কাফেররা সংখ্যায় বেশি ছিলো এবং তারা সরাসরি অাল্লাহর বিরোধিতা করত। তাদেরকে অাল্লাহর পথে অানাটা অনেক বেশ কঠিন ছিলো। তারপরও অাল্লাহর প্রেরিত হেদায়তকরীগন তাদের যুবানে অশ্লিল ভাষা ব্যবহার করেননি।
যুগে যুগে অাল্লাহর মনোনীত হেদায়তকারীগন ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তাদেরকে কত অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। অাল্লাহর কি কোরঅানে অামাদের বলে দেননি সেসব ঘটনা?
অামাদেরকি মনে পড়ে না কিভাবে ইব্রাহিম (অা) কে খোদার দ্বীন প্রচার করার কারনে বিশাল অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো?
কিভাবে রাসুলে পাক (স) কে সত্য দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার কারনে পাগল ডেকে হেয় করা হয়েছিল অার কিভাবে পাথরের অাঘাতে জর্জরিত করা হয়েছিলো?
এতকিছুর পরও তারা সত্য প্রচার করা থেকে বিরত হননি, অাল্লাহর উপর ভরসা করে সব সহ্য করে গেছেন। কারন-
👉কোরঅানে অাল্লাহ বলেছেন,,,,,,,,,
"ইন্নাল্লাহা ইয়ুহিব্বুস্ সাবিরিন".....অর্থ- নিশ্চয় অাল্লাহ সাবিরিনদের অর্থাৎ ধৈর্য্য ধারণকারীদের ভালোবাসেন।
👉অন্য অায়াতে অাল্লাহ বলেন,,,,,,,
"ইন্নল্লাহা মায়াস্ সাবিরিন" অর্থ- "নিশ্চয় অাল্লাহ ধৈর্য্য ধারনকরীদের সাথে অাছেন"।
তাঁরা মূলত অাল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অার কিছুই চাইতেন না। তায় এত এত কষ্ট সহ্য করেছেন। কারন অাল্লাহর সন্তুষ্টির কাছে এগুলো কিছুই না।
যেমনিভাবে একই কলবে অাল্লাহ এবং শয়তান একসাথে থাকেনা তেমনিভাবে মস্তিষ্কের মধ্যেও কোরঅানের সৌন্দর্য কিংবা শয়তানি দুইটা থেকে যে কোনো একটা থাকতে পারে কিন্তু কোরঅানের সৌন্দর্য অার শয়তানি দুইটা একসাথে একটি মস্তিষ্কে থাকতে পারেনা। যেই মুখ দিয়ে কোরঅানের বাণী প্রচার করা হয় সেই মুখ দিয়ে অশ্লিল কথা বের হতেই পারেনা। যারা কেরঅানের বাণীর দ্বারা মানুষকে সত্য পথে অাহ্বান করে, যারা প্রকৃত হেদায়তকারী তাদের যুবানে তাঁরা সব সময় মধুর ভাষায় কথা বলেন।
✍•••••••হযরত অাহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারি বলেছেন, "কবুতরের মতো বাছিয়া খাও"- একথা শুনে খাদকরা মনে করবে তিনি শুধু খাবারের কথা বলেছেন, কিন্তু না একথা তিনি শুধু খাবারের ক্ষেত্রে বলেননি, বলেছেন সকল কিছুর ক্ষেত্রে যা কিছু অামরা গ্রহণ করি, অাহরণ করি, ধারন করি। যেমন অামরা খাবার গ্রহণ করি পেটে অার জ্ঞান অাহরণ করি মগজে, তবে যা কিছুই গ্রহণ করি না কেন তা যেন হালাল হয় এবং সঠিক হয়।
যদি কারোর কাছে এক ডেক বাসি বিরিয়ান থাকে কি হবে তা দিয়ে? সেগুলো কি কেউকে খাওয়ানো যাবে? কিন্তু যদি এক প্লেট ফ্রেশ খাবার থাকে তা একজনকে হলেও খাওয়ানো যাবে। সুতরাং, বাসি বিরিয়ানির ডেকের মতো কিতাব পড়ে পড়ে কিতাবি হয়ে কি লাভ? বিবেকে যতটুকু পারা যায় যাচাই বাছাই করে সঠিক জ্ঞান অর্জন করলে, শেষ বিচারের দিন তা নাজাতের উসিলা হবে। মনে রাখা উচিত, এটা ফিতনার যুগ, অাখেরি জামানা। মানুষের ঈমান নিয়ে খেলার মতো চারিদিকে শয়তানের দোষরের অভাব নেই।
👉রাসুলে করিম (স) বলেছেন, "অাখেরি জামানায় মানুষের ঈমান রক্ষা করা হাতের তালুতে জলন্ত কয়লা রাখার মতো কষ্টকর হবে"। তায় কাউকে পছন্দ করি বলে একেবারে অন্ধের মতো বিশ্বাস বা ভরসা করা উচিত নয় যে, তিনি যাই বলবে তাই ঠিক ধরে নিয়ে পালন করতে থাকবো।
✍•••••••অার কেউ যদি বলে অমুক কিতাবে এই হাদিস অাছে, কিন্তু সত্যি যদি এরকম কোনো হাদিস ঐ কিতাবে না থাকে তাহলে কি হবে? অামাদের কি এসব যাচাই বাছাই করে দেখা উচিৎ নয়? ভন্ডদের থেকে অাল্লাহ অামাদেরকে হেফাযত করুক। (অামিন)।
অামরা সবাই জানি, হযরত অাদম (অা) ও হাওয়া (অা) বেহশতে গন্দম ফল খেয়েছিলে, তাই তাঁদেরকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এখন যদি বলা হয় তাঁরা গন্দম ফল খেয়েছিলেন বলে, গন্দম ফল খাওয়া অাদম (অা) এর সুন্নত, এবার কেমন হবে বিষয়টা? অথবা যদি বলা হয়, অাম, কাঁঠালের মতো যাক্কুমও একটা ফল, অার অাল্লাহ তো ফল খেতে নিষধ করেননি এই যুক্তি দিলে কি যাক্কুম ফল খেতে ইচ্ছা পোষণ করতে হবে?
সত্যি মানুষের যুক্তির কোনো শেষ নেই!!
★যারা অাল্লাহ তথা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা তাদের অবিশ্বাসের পিছনে তাদের কাছে অনেক যুক্তি অাছে।
★যারা ইসলাম ধর্ম বা অন্য ধর্মে বিশ্বাস করে, যার যার ধর্মের বিশ্বাসের পিছনে তাদের কাছে অনেক যুক্তি অাছে।
★অাবার ইসলাম ধর্মের মধ্যেও বিভিন্ন দল যেমন- শিয়া, ওহাবি, সুন্নি......... ইত্যাদি দলের অনুসারি হওয়ার পিছনে প্রত্যেক দলের কাছে অনেক যুক্তি অাছে।
এইযে এতো যুক্তি অাছে- কি হবে এসব যুক্তি দিয়ে? যুক্তি যুক্তি খেলার মাঝখানে সারা জীবনের হায়াত তো এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকে যার যার যুক্তিতে সদা অটল, প্রত্যেকে নিজেকে ঠিক মনে করে। এভাবে হলে যারা ভুল তারা চিরকালই ভুল থেকে যাবে। অামাদের উচিত সবসময় যেন অামাদের শিখার ইচ্ছা থাকে। তাহলে অামার কোনো ভুল থাকলে সেটা যাচাই করে নিতে পারবো এবং অার যদি মনে হয় এটা ভুল তাহলে আমার জানা সত্যটা আমি আরো দৃঢ়ভাবে যাচাই করে নিতে পারবো।
একজন বিবেকবান ব্যক্তি বক্তার প্রতি মনোযোগ দেয়না বক্তার বক্তব্যের প্রতি মনোযোগী হয়। অামাদের উচিত কে বলেছে সেটা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত না হয়ে কি বলেছে সেটা যাচাই করে ছেকে নিয়ে সঠিকটা গ্রহন করা।
★কোনো ব্যক্তি যদি ১০০টি কথা বলে তার মধ্যে ৯৯টি সঠিক এবং ১টা ভুল থাকলে তবে ঐ ১টি ভুল বাদ দিয়ে বাকি ৯৯টি গ্রহন করুন কিন্তু ৯৯টি সঠিক হওয়ার দোহাই দিয়ে ঐ ১টি ভুলকে গ্রহন করবেননা, কারন ঐ একটি ভুলের কারনে অাপনার ঈমানও চলে যেতে পারে।
★অার যদি কোনো ব্যক্তির ১০০টি কথার মধ্যে ৯৯টি ভুল এবং ১টি সঠিক থাকে তবে ৯৯টি ভুল বাদ দিয়ে ১টি সঠিক গ্রহণ করুন কিন্তু ৯৯টি ভুলের দোহাই দিয়ে ঐ একটি সঠিককে এরিয়ে যাবেননা হয়তো ১০০টি কথার মধ্যে ঐ ১টি সঠিক কথাটা অাপনার জীবন বদলে দিতে পারে।
★★সুতরাং অামাদের উচিৎ ভালো কিছু গ্রহণ করা এবং খারাপ কিছু বর্জন করা।
অামদের বিশ্বাসটা কোরঅান কেন্দ্রিক হওয়া উচিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। যদি একান্ত কারোর অন্ধ ভক্ত না হয়ে এভাবে ভালো- খারাপ বিবেচনা করে গ্রহন করা যায় তাহলে মানুষে মানুষে তর্ক, বারাবারি, দলাদলে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবেনা। পবিত্র কোরঅানে একতার প্রতি অাহ্বান করা হয়েছে বিভক্তির প্রতি নয়।
অতএব চলুন,
"কে বলেছে সেটা না দেখে কি বলেছে সেটা দেখি,
সূক্ষ্মভাবে যাচাই করে ভালো কিছু অর্জন করি, খারাপ কিছু বর্জন করি"
writer : Mrs sha alam,


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন